শবে বরাতে যা করণীয় ও বর্জনীয় শবে বরাতে যা করণীয় ও বর্জনীয়

শবে বরাতে যা করণীয় ও বর্জনীয় শবে বরাতে যা করণীয় ও বর্জনীয়

আমাদের টিভি ডেস্ক :
শবে বরাত একটি পুণ্যময় রজনী। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

হজরত আয়শা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ালেন এবং এত দীর্ঘ সেজদা করলেন যে আমার ধারণা হল, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন; আমি তখন উঠে তার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম, তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল; তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়িশা!

তোমার কী এ আশঙ্কা হয়েছে? আমি উত্তরে বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.), আপনার দীর্ঘ সেজদা দেখে আমার আশঙ্কা হচ্ছিল আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না?

নবীজী (সা.) বললেন, তুমি কি জানো এটা কোন্ রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলই ভালো জানেন। তখন নবীজী (সা.) বললেন, এটা হল অর্ধশাবানের রাত; এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন; ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করে দেন, অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (শুআবুল ইমান, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৮২)

শবে বরাতে আমাদের করণীয়

হজরত আবু উমামা বাহেলি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, যখন শাবান মাস আগমন করত তখন রাসূল (সা.) বলতেন, এ মাসে তোমরা তোমাদের অন্তর্জগৎকে পূতপবিত্র করে নাও এবং নিয়তকে পরিশুদ্ধ ও সঠিক করে নাও। (তাবরানি)

অন্তরকে পূতপবিত্র করার কী অর্থ? এর অর্থ হল, বেশি বেশি নেক আমল করা ও তওবা- ইস্তেগফার করা। যখন শাবান মাস আসত, রাসূল (সা.) নফল আমলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন। দিনে রোজা রাখতেন এবং রাতে দীর্ঘ সময় নামাজ পড়তেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন শাবানের মধ্য দিবস আসে, তখন তোমরা রাতে নফল ইবাদত করো ও দিনে রোজা পালন করো। (সুনানে ইবনে মাজাহ)

এ রাতে বিশেষ করে আমরা কয়েকটি আমল করতে পারি।

১. বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা ২. জিকির-আজকার করা ৩. দীর্ঘসময় নিয়ে নফল নামাজ পড়া ৪. সালাতুত তাসবীহ পড়া ৫. বেশি বেশি ইস্তেগফার করা ৬. অধিকপরিমাণে চোখের পানি ঝরিয়ে নিজের জন্য, সমস্ত মুসলমানের জন্য এবং মৃত আত্মীয়-স্বজনের জন্য দোয়া করা। ৭. লায়লাতুল বরাতের পরের দিন রোজা রাখা ৮. একাকী কবর জিয়ারত করা।

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজী (সা.) এ রাতে মদিনার কবরস্থান ‘জান্নাতুল বাকি’তে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করতেন।

তিনি আরও বলেন, নবীজী (সা.) তাকে বলেছেন, এ রাতে বনি কালবের ভেড়া-বকরির পশমের (সংখ্যার পরিমাণের) চেয়েও বেশিসংখ্যক গুণাহগারকে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেন। (তিরমিজি শরিফ, হাদিস: ৭৩৯)

ইমাম ইবনে রজব (রহ.) বলেন, শবে বরাতে নফল নামাজের জন্য মসজিদে ভিড় করা কিংবা মাহফিল করা মাকরূহ। (নফল ইবাদাত-বন্দেগি করতে হবে নিজের ঘরে)

তিনি আরও বলেন, একজন মুমিন বান্দার উচিত, এ রাতে জিকির ও দোয়ার জন্য পুরোপুরি অবসর হয়ে যাওয়া। উচিত হল, প্রথমে খাঁটি মনে তওবা করা; এরপর মাগফিরাত ও ক্ষমা প্রার্থনা করা; আপদ-বিপদ দূর হওয়ার জন্য দোয়া করা এবং নফল নামাজ বেশি বেশি পড়া।

সব সময় সে সব গোনাহ থেকে বিরত থাকা, বিশেষত যেগুলো এই রাতের ফজিলত (ব্যাপক ক্ষমা) থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে। যেমন- শিরক, হত্যা, জিনা, হিংসা ইত্যাদি।

(সূত্র: লাতায়িফুল মাআরিফ ফীমা লিমাওয়াসিমিল ‘আমি মিনাল ওয়াযায়েফ)

শবে বরাতে যা করা যাবে না

১. এই রাতকে উপলক্ষ করে মসজিদে বিপুল পরিমাণ কোনো জনসমাগমের আয়োজন করা যাবে না।

২. শুধু শবে বরাতকে কেন্দ্র করে মসজিদে বা ঘরে প্রয়োজন অতিরিক্ত লাইটিং করা যাবে না।

৩. ইবাদত মনে করে হালুয়া-রুটির আয়োজন করা যাবে না।

৪. ইবাদত মনে করে খাশি জবেহ করা যাবে না।

৫. আতশবাজি,পটকা ফোটানো যাবে না।

৬. ইবাদত-বন্দেগি বাদ দিয়ে অযথা ঘোরাফেরা করা যাবে না।

৭. গর্হিত ও অশ্লীল কোনো কাজ করা যাবে না।

৮. অন্য কারও ইবাদতের বা ঘুমের বিঘ্ন ঘটানো যাবে না

৯. এবং দলবেঁধে কবরস্থানেও যাওয়া যাবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি অসম্ভব ভালোবাসা ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এ ভালোবাসা থেকেই বঙ্গবন্ধু যখন প্রাদেশিক সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তার দূরদর্শিতায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার বিল আনা হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)।

সিনেমা অঙ্গনকে ভালোবেসে এদেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে আমৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। বঙ্গবন্ধু অভিনীত সিনেমাটির নাম ‘সংগ্রাম’। ছবিটি পরিচালনা করেন প্রয়াত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র ‘সংগ্রাম’। এতে ছোট্ট এক ভূমিকায় হাজির হয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালি। সে সময়ের চিত্রনায়ক কামরুল আলম খান খসরু ও চাষী নজরুল ইসলামের অনুরোধে ছোট্ট ওই চরিত্রে অভিনয়ে রাজি হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

ছবির চিত্রনাট্যের শেষ দিকে ছিল, মুক্তিযুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীন দেশের সামরিক বাহিনী বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্যালুট করছে। এই দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা যায় সে নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। একপ্রকার দুঃসাহস নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন ছবিটির নায়ক খসরু। কিন্তু বঙ্গবন্ধু প্রথমে রাজি হননি। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নানকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে অভিনয়ের জন্য তাকে রাজি করানো হয়।

‘সংগ্রাম’ ছবিটিতে নাযক ছিলেন খসরু আর নায়িকা সূচন্দা। ছবিটি ১৯৭৪ সালে মুক্তি পায়।

বঙ্গবন্ধু যে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন