রাঙ্গামাটিতে নানিয়ারচর সেতুটির নামকরণ করার দাবিতে মানববন্ধন

রাঙ্গামাটিতে নানিয়ারচর সেতুটির নামকরণ করার দাবিতে মানববন্ধন

মিন্টু কান্তি নাথ (রাজস্থলী ) : রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার সেতুটি বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ এর নামে নামকরণ করার দাবি জানিয়ে আজ সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) রাঙামাটি জেলা শাখা। মানববন্ধনে নাগরিক পরিষদ রাঙামাটি জেলা সহ-সভাপতি কাজী জালোয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান, মহাসচিব আলমগীর কবির, রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোলায়মান, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি মো: হাবীব আজম, ছাত্র নেতা শহীদুল ইসলাম, পারভেজ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়ারচর উপজেলাধীন সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের রাঙামাটি সড়ক বিভাগাধীন বগাছড়ি-নানিয়ারচর-লংগদু জেলা মহাসড়ক (জেড-১৬১২)-এর ১০ম কিলোমিটারে নির্মিত নানিয়ারচর সেতুটির নাম চিত্রশিল্পী “বাবু চুনিলাল দেওয়ান সেতু” নামে নামকরণের নিমিত্তে গত ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন। উক্ত প্রজ্ঞাপনটি দেখে পার্বত্যবাসী অত্যন্ত ব্যাথিত ও মর্মাহত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তরা, সরকারের কাছে পার্বত্য এলাকার আপামর জনতার আবেগ অনুভূতি ও মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সম্মানের মূল্যায়ন করে উক্ত প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করার জোর দাবি জানান। বক্তারা আরো বলেন, উক্ত সেতুটির পাশে ঘুমিয়ে আছেন বাংলা মায়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ। তার সম্মানে উক্ত সেতুটি “বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ সেতু” নামে নামকরণ করার জন্য পার্বত্যবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলো। কিন্তু সাধারণ পার্বত্যবাসীর দাবিকে পাশ কাটিয়ে সেতুটি অন্য নামে নামকরণ করা হলো। এতে পার্বত্য এলাকার ছাত্র সমাজ ও সাধারণ জনগণ খুবই মর্মাহত হয়েছে। বক্তারা বলেন, মুন্সি আব্দুর রউফ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব “বীর শ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাঁদের অন্যতম। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি নিয়মিত পদাতিক সৈন্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ সমরে ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল (মতান্তরে ২০ এপ্রিল) তিনি মর্টার শেলের আঘাতে শহীদ হন। তাঁকে রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে একটি টিলার ওপর সমাহিত করা হয়। যে নানিয়ারচর এর মাটিতে এই বীরশ্রেষ্ঠ শায়িত রয়েছেন সেই মাটির উপরে একটি সেতুর নামকরণ করা হচ্ছে অন্য নামে যা আমরা রাঙামাটিবাসী তথা পার্বত্যবাসী মেনে নিতে পারছি না। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার পক্ষ হতে সেতুটির নাম পরিবর্তন করে “বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ সেতু” নামে পুনরায় নামকরণ করার দাবি জানাচ্ছি।

Please Share This Post in Your Social Media

শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি অসম্ভব ভালোবাসা ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এ ভালোবাসা থেকেই বঙ্গবন্ধু যখন প্রাদেশিক সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তার দূরদর্শিতায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার বিল আনা হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)।

সিনেমা অঙ্গনকে ভালোবেসে এদেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে আমৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। বঙ্গবন্ধু অভিনীত সিনেমাটির নাম ‘সংগ্রাম’। ছবিটি পরিচালনা করেন প্রয়াত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র ‘সংগ্রাম’। এতে ছোট্ট এক ভূমিকায় হাজির হয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালি। সে সময়ের চিত্রনায়ক কামরুল আলম খান খসরু ও চাষী নজরুল ইসলামের অনুরোধে ছোট্ট ওই চরিত্রে অভিনয়ে রাজি হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

ছবির চিত্রনাট্যের শেষ দিকে ছিল, মুক্তিযুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীন দেশের সামরিক বাহিনী বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্যালুট করছে। এই দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা যায় সে নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। একপ্রকার দুঃসাহস নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন ছবিটির নায়ক খসরু। কিন্তু বঙ্গবন্ধু প্রথমে রাজি হননি। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নানকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে অভিনয়ের জন্য তাকে রাজি করানো হয়।

‘সংগ্রাম’ ছবিটিতে নাযক ছিলেন খসরু আর নায়িকা সূচন্দা। ছবিটি ১৯৭৪ সালে মুক্তি পায়।

বঙ্গবন্ধু যে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন