ভারতের রাষ্ট্রপতি আসছেন আজ,স্বাগত জানাতে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানাবে বাংলাদেশ

ভারতের রাষ্ট্রপতি আসছেন আজ,স্বাগত জানাতে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানাবে বাংলাদেশ

প্রবাহবার্তা  প্রতিবেদন : ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার ঢাকা আসছেন। তুরস্কে সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন মঙ্গলবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ভারতের রাষ্ট্রপতির সফর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।  পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বুধবার ঢাকা সফরে আসছেন। তার সঙ্গে ভারতের ফার্স্ট লেডি, রাষ্ট্রপতির কন্যা, ভারতের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, দুইজন সংসদ সদস্য এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন। ঢাকা সফরকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিববর্ষের সমাপনী দিন ও বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বুধবার সকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি কোবিন্দকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। বিমানবন্দর থেকে ভারতের রাষ্ট্রপতি সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর তিনি ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন।

এদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে যাবেন এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বঙ্গভবনে তার সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজেও অংশ নেবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি।

সফরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে সকালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতীয় কুচকাওয়াজ আয়োজনে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এদিন বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজায় বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক মুহূর্তে (৪টা ৩১ মিনিট) বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং রক্তস্নাত বিজয়ের আবেগ ও আনন্দ উদযাপনের জন্য আয়োজিত ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি।

সফরের শেষ দিন ১৭ ডিসেম্বর ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ঢাকার রমনায় কালী মন্দিরের সদ্য সংস্কার করা অংশের উদ্বোধন করবেন এবং মন্দিরটি পরিদর্শন করবেন। এদিন দুপুরে তিনি দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি অসম্ভব ভালোবাসা ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এ ভালোবাসা থেকেই বঙ্গবন্ধু যখন প্রাদেশিক সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তার দূরদর্শিতায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার বিল আনা হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)।

সিনেমা অঙ্গনকে ভালোবেসে এদেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে আমৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। বঙ্গবন্ধু অভিনীত সিনেমাটির নাম ‘সংগ্রাম’। ছবিটি পরিচালনা করেন প্রয়াত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র ‘সংগ্রাম’। এতে ছোট্ট এক ভূমিকায় হাজির হয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালি। সে সময়ের চিত্রনায়ক কামরুল আলম খান খসরু ও চাষী নজরুল ইসলামের অনুরোধে ছোট্ট ওই চরিত্রে অভিনয়ে রাজি হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

ছবির চিত্রনাট্যের শেষ দিকে ছিল, মুক্তিযুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীন দেশের সামরিক বাহিনী বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্যালুট করছে। এই দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা যায় সে নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। একপ্রকার দুঃসাহস নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন ছবিটির নায়ক খসরু। কিন্তু বঙ্গবন্ধু প্রথমে রাজি হননি। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নানকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে অভিনয়ের জন্য তাকে রাজি করানো হয়।

‘সংগ্রাম’ ছবিটিতে নাযক ছিলেন খসরু আর নায়িকা সূচন্দা। ছবিটি ১৯৭৪ সালে মুক্তি পায়।

বঙ্গবন্ধু যে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন