বাল্যবিয়ের সঙ্গে জড়িত পুরুষদের আইনের আওতায় আনতে হবে-মেহের আফরোজ চুমকি

বাল্যবিয়ের সঙ্গে জড়িত পুরুষদের আইনের আওতায় আনতে হবে-মেহের আফরোজ চুমকি

প্রবাহবার্তা  প্রতিবেদন :বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সোমবার আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘কিশোরী-কিশোরদের আত্ম-উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবেশের ভূমিকা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ তথ্য জানান।

তারা জানান, দেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ কন্যাশিশু রয়েছে। ১৮ শতাংশ মেয়ের ১৫ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে হচ্ছে এবং ১৮ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে হচ্ছে ৫২ শতাংশ কন্যাশিশুর। করোনা মহামারির এই সময়ে দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাল্যবিয়ের সংকট বর্তমানে আরও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, এখনো দেশের প্রান্তিক সমাজ কাঠামোয় কন্যাশিশুরা অধিকাংশই অবহেলিত। তারা মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও পুষ্টিহীনতারও শিকার। নারীদের শিক্ষার অধিকার, আইনি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, চিকিৎসা সুবিধা, বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, নারীর বিরুদ্ধে হিংসা ও বাল্যবিয়ে বন্ধসহ সব কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ার তাগিদ দেন তারা।

দিবসটি উপলক্ষে ইউনিলিভার বাংলাদেশ (ইউবিএল), আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং চিলড্রেন অ্যাফেয়ার্স জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক (সিএজেএন) যৌথভাবে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন।

তথ্যপ্রযুক্তিতে কন্যাশিশুদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ডিজিটাল জেনারেশন, আওয়ার জেনারেশন’ অর্থাৎ ডিজিটাল প্রজন্মই, আমাদের প্রজন্ম।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে সংসদ সদস্য এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরী ও কিশোররা নানা ধরনের মনোদৈহিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। এ সময় যেন তারা কোনো ভুল করে না বসে, সে বিষয়ে বাড়তি নজর রাখতে হবে। কিশোরী-কিশোরদের সুস্বাস্থ্য সম্পর্কে সবার মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। সমাজে বাল্যবিয়ের প্রবণতা আমাদের কিশোরীদের চলার পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছে। তাই বাল্যবিয়ের সঙ্গে জড়িত পুরুষদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাম চন্দ্র দাস বলেন, কন্যাশিশুদের অগ্রগতিতে এখন বড় ধরনের অন্তরায় হিসেবে রয়েছে বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহ রোধ করতে আমাদের গ্রামে গ্রামে প্রতিরোধ কমিটিও আছে। তবে করোনা মহামারির এই সময়ে বাল্যবিয়ের বিষয়ে পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের অভাবে বাল্যবিয়ের হারটা হুট করে বেড়ে গেছে। সমাজে কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ও নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যম, এনজিও এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ করা জরুরি মনে করেন তিনি।

চিলড্রেন অ্যাফেয়ার্স জার্নালিস্টস নেটওয়ার্কের সভাপতি মাহফুজা জেসমিনের সভাপতিত্বে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, ইউনিলিভার বাংলাদেশের (ইউবিএল) সিইও অ্যান্ড এমডি জাভেদ আখতার, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ওরলা মার্ফিসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ইউনিলিভার বাংলাদেশ (ইউবিএল) ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ‘ডাভ সেলফ-এস্টিম প্রজেক্ট’ (ডিএসইপি) এর উদ্বোধন করেন মেহের আফরোজ চুমকি।

‘ডাভ’র এই ব্যতিক্রমী বৈশ্বিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৪২ দেশের ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। আগামী প্রজন্ম বিশেষ করে নারী শিশুদের নিজের বাহ্যিক অবয়ব সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বেড়ে উঠতে সহযোগিতা করা ও তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানায় ডিএসইপি।

Please Share This Post in Your Social Media

শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি অসম্ভব ভালোবাসা ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এ ভালোবাসা থেকেই বঙ্গবন্ধু যখন প্রাদেশিক সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তার দূরদর্শিতায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার বিল আনা হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)।

সিনেমা অঙ্গনকে ভালোবেসে এদেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে আমৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। বঙ্গবন্ধু অভিনীত সিনেমাটির নাম ‘সংগ্রাম’। ছবিটি পরিচালনা করেন প্রয়াত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র ‘সংগ্রাম’। এতে ছোট্ট এক ভূমিকায় হাজির হয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালি। সে সময়ের চিত্রনায়ক কামরুল আলম খান খসরু ও চাষী নজরুল ইসলামের অনুরোধে ছোট্ট ওই চরিত্রে অভিনয়ে রাজি হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

ছবির চিত্রনাট্যের শেষ দিকে ছিল, মুক্তিযুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীন দেশের সামরিক বাহিনী বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্যালুট করছে। এই দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা যায় সে নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। একপ্রকার দুঃসাহস নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন ছবিটির নায়ক খসরু। কিন্তু বঙ্গবন্ধু প্রথমে রাজি হননি। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নানকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে অভিনয়ের জন্য তাকে রাজি করানো হয়।

‘সংগ্রাম’ ছবিটিতে নাযক ছিলেন খসরু আর নায়িকা সূচন্দা। ছবিটি ১৯৭৪ সালে মুক্তি পায়।

বঙ্গবন্ধু যে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন