পথ হারাবেনা বাংলাদেশঃ প্রসঙ্গ তেলের মুল্য বৃদ্ধি

পথ হারাবেনা বাংলাদেশঃ প্রসঙ্গ তেলের মুল্য বৃদ্ধি

দৈনিক প্রবাহ বার্তা : কেন হঠাৎ করে বেড়ে গেল তেলের দাম। অনেকেই জানেন না। তেলের দামের বৃদ্ধির কারণে হয়তো সমস্যা হবে অনন্য জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু আসলেই কি তা হবে। আমরা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে আমরা একটু বিচার বিশ্লেষণ করি। দলগত ভাবে আমি নিজে আওয়ামী লীগের একজন অতি ক্ষুদ্র সমর্থক কিন্তু তাই বলে সরকারকে ডিপেণ্ড করছি ব্যাপারটা তাও না। আমি লক্ষ্য করলাম ইউটিউব এবং ফেসবুক কেউ কেউ বলছে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে মিল রেখে দাম বাড়ানো হচ্ছে। ব্যাপারটা এমন না। আমাদের সরকার সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ঋণের জন্য আবেদন করেছে। কারন পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিগত ছয় মাসে (ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত) জ্বালানি তেল বিক্রিতে ৮ হাজার ১৪ কোটি টাকার বেশি লোকসান দিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পরিস্থিতির কারণে বিপিসির আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। গত ০৫/০৮/২০২২ শুক্রবার মধ্যরাতে ‘ডিজেলের দাম লিটারে ৩৪, পেট্রলে ৪৪ টাকা বাড়িয়েছে বা বলাচলে অনেকটা ‘নিরুপায় হয়েই জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছে সরকার। হা বলতেই পারেন কেন ঋণ নিতে হবে। এই মুহুর্তে ঋণ না নিলে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ এ হাত দিতে হবে সেটা দেশের জন্য ভালো হবে না। আপনারা অনেকেই সরকার কে দেশপ্রেমিক নয় বলে আখ্যা দিতে পারেন কিন্তু আসলেই তা নয়। হা সরকারের অনেক ব্যার্থতা তো আছেই, স্বাধীনতার ৫০ বছরে অনেক সরকার দেখেছি আমরা সবারই ব্যার্থতা ও সাফল্য আছে। আর একটা কথা মানতে হবে আমাদের ৩০০ এমপি, মন্ত্রী কিম্বা হাজার হাজার স্থানীয় প্রতিনিধি কিন্তু উগান্ডা থেকে নয় এদেশেরই মানুষ আমি আপনি সবাই তো দেশপ্রেম হীন ও না আবার সবাই দুধে ধুয়া তুলসীপাতা ও না। তাই বিচার বিশ্লেষণ এর ক্ষেত্রে এগুলোও চিন্তা য় আনবেন। আই এম এফ প্রসঙ্গে চলে আসি। ঋণ দিতে হলে আইএমএফ কিছু শর্ত দেয়। এসব শর্তের কিছু ঋণগ্রহীতা দেশের প্রতিকূলে যায়, আবার অনেক শর্ত দেশের অর্থনীতির অনুকূলেও থাকে। তবে গ্রহীতা দেশে পপুলিস্ট সরকার (যারা জনগণের তুষ্টি অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেয়)(আওয়ামী লীগের একজন অতি ক্ষদ্র কর্মী হিসাবে আমি আমার সরকারকে পপুলিষ্ট সরকার মনে করি) থাকলে তারা এসব শর্তকে অসুবিধাজনক মনে করে বা এটাকে কৌশলে ব্যাবহার করে। যেমন—আইএমএফের একটি সাধারণ শর্ত হলো ভর্তুকি কমিয়ে দেওয়া। এর কারণ হলো আই এফ এম পরিবেশ বাদি হিসাবে সাধারণত জালানি তেলের উপর ভুর্তকি তুলে দিতে বলে। কারণ তারা পরিবেশ বাদি ও জালানি তেলের ব্যাবহার হলে পরিবেশের ক্ষতি হয়। তারা তাদের নীতির কারণে সরকারকে কিছু ভর্তুকি দিতে বলেছে। মুলত সরকার ভর্তুকি তুলে নিয়েছে তেলের ক্ষেত্রে। তবে আশার কথা হলো আই এম এফ সবাইকে লোন দয় না। তারা এমন কোনো অর্থনীতিকে ঋণ দেবে না, যে অর্থনীতি একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে কিংবা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অর্থাৎ যাদের পরিশোধ করার সক্ষমতা নেই, তাদের আইএমএফ ঋণ দেয় না। যেমন—শ্রীলঙ্কা ঋণ চেয়েছিল, কিন্তু পায়নি। আইএমএফ বুঝতে পেরেছিল যে দেশটি ঋণ ফেরত দিতে পারবে না। পাকিস্তানকে অবশ্য আইএমএফ ঋণ দিচ্ছে কঠিন শর্ত সাপেক্ষে। হয়তো সংস্থাটি ধারণা করছে, পাকিস্তান ফেরত দিতে পারবে। অথবা ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে আইএমএফের আরো মানদণ্ড কাজ করে থাকতে পারে। যেমন—কোন দেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোন অবস্থানে আছে, সেটাও তারা বিবেচনায় নেয়।তাহলে আই এম এফ এর দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অবস্থা ভালো কি বলেন? বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছে। এ ক্ষেত্রে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সঠিক পথেই হাঁটছে বলেই ধরে নেওয়া যায়। লক্ষ্য করুন সরকারি ব্যয় কমানো,আমলাদের অকারণ বিদেশ যাত্রা কমানো, আমদানি কড়াকড়ি সহ বেশ কটি বিষয়ে ভালো পদক্ষেপ আছে। তবে সরকারের ডলার বাঁচানো বা অর্থনৈতিক ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টাকে ই আমি আশার আলো মনে করি। সরকার যেটা পেরেছে সেটা হল ডলারের বিপরিদে টাকার মান যতটা সম্ভব ধরে রাখা। আন্তর্জাতিক ভাবে দেখলে দেখা যাবে এখন বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতিটা প্রধানত সরবরাহ ঘাটতি থেকে আসছে। সরবরাহ যদি কম থাকে, তাহলে শুধু সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি রোধ করা সম্ভব নয়। এটা আমাদের দেশের জন্যও সত্য। যুক্তরাষ্ট্রে গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। যুক্তরাজ্যেও মূল্যস্ফীতি মারাত্মক। ইউরোপের দেশগুলোতেও একই অবস্থা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, তেলের মূল্যবৃদ্ধি, খাদ্যশস্যের মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। আমাদের ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার চাইছে আই এম এফ এর ঋণ নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখা। তেলের মুল্য বৃদ্ধি সাথে সব কিছুর মুল্য বৃদ্ধি পাই এটা ঠিক তাই তো শর্তের কারণে তেলের ভুর্তকি তুলে নিলেও পন্য পরিবহন বা অনন্য ক্ষেত্রে ভুর্তকি দিয়ে সব কিছু ঠিক রাখার চেষ্টা করছে সরকার। জনগণ কে বলবো একটু বিশ্বাস রাখেন সরকারের প্রতি। যেমন আইএমএফ এর প্রস্তাবনা ছিল ব্যাংকগুলো নিজেদের মত সুদের হার নির্ধারণ করে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া কিন্তু সেটা হলে দেশের মাঝারি ব্যাবসায়িরা বিপদে পড়তেন তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রী এটা গ্রহণ করেননি। বিশ্বের মত আমরাও নিজেরা সংকটে। আমরা সবাই তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিশ্ব পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে একটু সাশ্রয়ী হই। সবাই সবার পাসে থাকি সুদিন ফিরতে প্রয়োজনে আবার সমালোচনা করবো। বিশ্বাস রাখেন সরকার চেষ্টা করছে। ব্রিটিশ বিল্পবের সময়ের ছাড়া জাগানো গানটির মতই বলি। মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নে রে ভাই ; দীন-দুঃখিনী মা য়ে তোদের তার বেশী আর সাধ্য নাই | ঐ মোটা সূতোর সঙ্গে, মায়ের অপার স্নেহ দেখতে পাই ; আমরা, এমনি পাষাণ, তাই ফেলে ঐ পরের দোরে ভিক্ষা চাই | আমি বিশ্বাস করি যতদিন শেখ হাসিনার হাতে দেশ পথ হারাবেনা বাংলাদেশ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু জয়তু শেখ হাসিনা।

লেখক : বেদুইন হায়দার লিও বঙ্গবন্ধু গবেষক ও তৃনমূল কর্মী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

Please Share This Post in Your Social Media

শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি অসম্ভব ভালোবাসা ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এ ভালোবাসা থেকেই বঙ্গবন্ধু যখন প্রাদেশিক সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তার দূরদর্শিতায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার বিল আনা হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)।

সিনেমা অঙ্গনকে ভালোবেসে এদেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে আমৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। বঙ্গবন্ধু অভিনীত সিনেমাটির নাম ‘সংগ্রাম’। ছবিটি পরিচালনা করেন প্রয়াত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র ‘সংগ্রাম’। এতে ছোট্ট এক ভূমিকায় হাজির হয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালি। সে সময়ের চিত্রনায়ক কামরুল আলম খান খসরু ও চাষী নজরুল ইসলামের অনুরোধে ছোট্ট ওই চরিত্রে অভিনয়ে রাজি হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

ছবির চিত্রনাট্যের শেষ দিকে ছিল, মুক্তিযুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীন দেশের সামরিক বাহিনী বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্যালুট করছে। এই দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা যায় সে নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। একপ্রকার দুঃসাহস নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন ছবিটির নায়ক খসরু। কিন্তু বঙ্গবন্ধু প্রথমে রাজি হননি। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নানকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে অভিনয়ের জন্য তাকে রাজি করানো হয়।

‘সংগ্রাম’ ছবিটিতে নাযক ছিলেন খসরু আর নায়িকা সূচন্দা। ছবিটি ১৯৭৪ সালে মুক্তি পায়।

বঙ্গবন্ধু যে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন