দাবি আদায়ে আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ

দাবি আদায়ে আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ

দৈনিক প্রবাহবার্তা প্রতিবেদন : আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে ৭ দফা দাবি আদায় বা এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়  অভিমুখে পদযাত্রা করবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। একই সাথে কালো ব্যাজ ধারণসহ আরও মোট চার কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকারি কর্মচারির এই সংগঠনটি। শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি তাদের দাবি আদায়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংবাদ সম্মেলনে বেতন বৈষম্য নিরসন, ৫০শতাংশ মহার্ঘ ভাতা, নতুন পে-স্কেলসহ ৭ দফা দাবি আদায়ে ফের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সমন্বয়ক মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য দেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। আরেক সমন্বয়ক লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সভাপতিত্ব করেন সমন্বয়ক ইব্রাহিম খলিল। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে ৭ দফা দাবি আদায় না হলে নতুন করে কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। নতুন কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- ১. আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর, রোববার থেকে ২২ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবে। ২. আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ইং রোববার থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর সকল অফিসে ৭ দফা দাবি সপক্ষে জনমত তৈরি ও প্রচার প্রচারনা চালানো হবে। ৩. আগামী ১ অক্টোবর ২০২২ইং বাংলাদেশের সকল জেলায় প্রেসক্লাবের সামনে একযোগে সকাল ১০টা থেকে ৭ দফা দাবির সপক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হবে। একই সাথে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে আবারও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হবে। ৪. এরপরও দাবি পুরন না হলে জোটের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের উদ্যেগে আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২২ ইং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন শেষে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন অভিমুখে পদযাত্রা ও ৭ দফা দাবি সপক্ষে স্বারকলিপি প্রদান করা হবে। এর পরেও দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আগামী ১ নভেম্বর ২০২২ থেকে কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচী দেওয়া হবে বলে জানায় সংগঠনটি। এর আগে বেতন বৈষম্য নিরসন, ৫০শতাংশ মহার্ঘ ভাতা, নতুন পে-স্কেলসহ ৭ দফা দাবি আদায়ে সংবাদ সম্মেলন করে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায়ে ঐক্য পরিষদ এর পূর্বে বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোলায়মান হোসেন প্রামাণিক তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের দাবির সাথে তাদের মৌলিক দাবি মিল থাকায় উক্ত সংগঠনের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেন। তিনি উক্ত পরিষদের যে কোন কর্মসূচিতে সহযোগিতার ঘোষনা প্রদান করেন। ৭ দফা দাবিসমূহ: ১। পে-কমিশন গঠন পূর্বক ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। পে-স্কেল বাস্তবায়নের পূর্বে অন্তর্বতীকালীন কর্মচারীদের জন্য ৫০% মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান করতে হবে। ২। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা অনুযায়ী ১০ ধাপে বেতন স্কেল নির্ধারণসহ পে-কমিশনে কর্মচারী প্রতিনিধি রাখাতে হবে। ৩। সচিবালয়ের ন্যায় সকল দপ্তর, অধিদপ্তরের পদ পদবী পরিবর্তনসহ এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রনয়ণ করতে হবে। ৪। টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড পূণর্বহাল সহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পূনঃবহল, বিদ্যমান গ্রাচুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০% এর স্থলে ১০০% নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ৫। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের আপীল বিভাগের রায় বাস্তবায়নসহ সহকারী শিক্ষকদের বেতন নিয়োগ বিধি-২০১৯ এর ভিত্তিতে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ। ৬। আউট সোর্সিং পদ্ধতি বাতিল পূর্বক উক্ত পদ্ধতিতে নিয়োগকৃত ও উন্নয়ন খাতের কর্মচারীদের রাজস্বখাতে স্থানান্তর করতে হবে। ব্লক পোষ্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সকল পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। ৭। বাজারমূল্যের উর্দ্ধগতি ও জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সমন্বয় পূর্বক সকল ভাতাদি পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স সীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি অসম্ভব ভালোবাসা ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এ ভালোবাসা থেকেই বঙ্গবন্ধু যখন প্রাদেশিক সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তার দূরদর্শিতায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার বিল আনা হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)।

সিনেমা অঙ্গনকে ভালোবেসে এদেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে আমৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। বঙ্গবন্ধু অভিনীত সিনেমাটির নাম ‘সংগ্রাম’। ছবিটি পরিচালনা করেন প্রয়াত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র ‘সংগ্রাম’। এতে ছোট্ট এক ভূমিকায় হাজির হয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালি। সে সময়ের চিত্রনায়ক কামরুল আলম খান খসরু ও চাষী নজরুল ইসলামের অনুরোধে ছোট্ট ওই চরিত্রে অভিনয়ে রাজি হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

ছবির চিত্রনাট্যের শেষ দিকে ছিল, মুক্তিযুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীন দেশের সামরিক বাহিনী বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্যালুট করছে। এই দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা যায় সে নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। একপ্রকার দুঃসাহস নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন ছবিটির নায়ক খসরু। কিন্তু বঙ্গবন্ধু প্রথমে রাজি হননি। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নানকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে অভিনয়ের জন্য তাকে রাজি করানো হয়।

‘সংগ্রাম’ ছবিটিতে নাযক ছিলেন খসরু আর নায়িকা সূচন্দা। ছবিটি ১৯৭৪ সালে মুক্তি পায়।

বঙ্গবন্ধু যে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন