চট্রগ্রাম রাঙ্গুনিয়া মধ্যরাতে আগুনে পুড়ে একই পরিবারের শিশু সহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

চট্রগ্রাম রাঙ্গুনিয়া মধ্যরাতে আগুনে পুড়ে একই পরিবারের শিশু সহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের একই পরিবারের ২ শিশু সন্তানসহ ৫ সদস্যে মর্মান্তিক মৃত্যুর হয়েছে। শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) ২০২৩ইং তারিখ দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মহাজনপাড়া এলাকার বাসিন্দা খোকন বসাকের বসতঘরে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় গৃহকর্তা খোকন বসাক (৪২) আগুনের লেলিহান শিখার মধ্যদিয়ে কোনো রকম বের হয়ে আসতে সক্ষম হলেও ভিতরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা তার বাবা কাঙ্গাল বসাক (৭০), মা ললীতা বসাক (৬০), স্ত্রী লাকী বসাক (৩২), ছেলে শৌরভ বসাক (১২) ও মেয়ে শয়ন্তী বসাক (৬) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এসময় গুরুতর দগ্ধ গৃহকর্তা খোকন বসাককে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) ও রাঙ্গুনিয়া থানার ওসিসহ পুলিশ ফোর্স এবং ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় বসতঘরের জানালার গ্রিল কেটে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ৫ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে খোকন বসাকের মালিকানাধীন সিএনজি অটোরিকশাটিও সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক খোকন বসাকের বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সেমিপাকা (পাকা ওয়াল ও টিনশেড) ঘরে বসবাস করতেন। তিন কক্ষবিশিষ্ট ঘরটিতে একটিমাত্র দরজা ছিল। উল্লেখ্য, আনুমানিক ১০ বছর পূর্বে একই বাড়িতে অনুরূপ আরেকটি অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। সেই যাত্রায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এবার কেউ বাঁচতে পারলো না। তবে স্থানীয়দের ধারণা, রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুন লেগে সেখানে মজুদকৃত বিপুল পরিমাণ কাঠের লাকড়ির মাধ্যমে তা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, রাত ২টা ১০ মিনিটে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করি। আমাদের রাঙ্গুনিয়া ও আগ্রাবাদ স্টেশন আগুন নেভানোর কাজ করে। ভোর ৪টায় আগুন নির্বাপণ হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পাশে থাকা সিএনজি অটোরিক্সা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণেই ঘটনার ভয়াবহতা বেড়েছে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) আনোয়ার হোসেন শামীম ও রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মাহাবুব মিল্কি জানান, বসতঘর সংলগ্ন ভিকটিমদের নিজেদের রান্নাঘর থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়। পুলিশ অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি অসম্ভব ভালোবাসা ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এ ভালোবাসা থেকেই বঙ্গবন্ধু যখন প্রাদেশিক সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তার দূরদর্শিতায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার বিল আনা হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)।

সিনেমা অঙ্গনকে ভালোবেসে এদেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে আমৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। বঙ্গবন্ধু অভিনীত সিনেমাটির নাম ‘সংগ্রাম’। ছবিটি পরিচালনা করেন প্রয়াত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র ‘সংগ্রাম’। এতে ছোট্ট এক ভূমিকায় হাজির হয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালি। সে সময়ের চিত্রনায়ক কামরুল আলম খান খসরু ও চাষী নজরুল ইসলামের অনুরোধে ছোট্ট ওই চরিত্রে অভিনয়ে রাজি হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

ছবির চিত্রনাট্যের শেষ দিকে ছিল, মুক্তিযুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীন দেশের সামরিক বাহিনী বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্যালুট করছে। এই দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা যায় সে নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। একপ্রকার দুঃসাহস নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন ছবিটির নায়ক খসরু। কিন্তু বঙ্গবন্ধু প্রথমে রাজি হননি। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নানকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে অভিনয়ের জন্য তাকে রাজি করানো হয়।

‘সংগ্রাম’ ছবিটিতে নাযক ছিলেন খসরু আর নায়িকা সূচন্দা। ছবিটি ১৯৭৪ সালে মুক্তি পায়।

বঙ্গবন্ধু যে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন