ইয়ুথ বাংলার তরুণ উদ্যোক্তা মেলা সমাপনী আজ

ইয়ুথ বাংলার তরুণ উদ্যোক্তা মেলা সমাপনী আজ

প্রবাহবার্তা প্রিয়াংকা ইসলাম  : ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী তরুণ উদ্যোক্তা মেলা চলছে ঢাকার গুলশান শুটিং ক্লাবে। ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিনে শুরু হওয়া এই ব্যতিক্রমী মেলা শনিবার রাতে শেষ হলেও আজ রবিবার সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে। মেলাটি মূলত নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে আয়োজিত। মেলায় হস্তশিল্প, কারুকার্য, হাতে বানানো পোশাক, শিশুদের পোশাক, হোম মেইড ফুড, জুয়েলারিসামগ্রী, অর্গানিক পণ্য, ঐতিহ্যবাহী খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসেছে, যা রাজধানীবাসীর নজর কেড়েছে। মেলায় ২৫টিরও বেশি ক্যাটাগরির পণ্য নিয়ে ৭০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার অভিনয়শিল্পী দিলারা জামান ও ডলি জহুরকে সঙ্গে নিয়ে মেলার উদ্বোধন করেন ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা সীমা হামিদ। তখন উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য আবৃত্তিকার শিমুল মোস্তফা, অভিনয়শিল্পি ও পরিচালক সালাহ উদ্দিন লাভলু, ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরামের প্রেসিডেন্ট মুনা চৌধুরী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমান রেজা, সংগঠনের ইভেন্ট অর্গানাইজার কমল চৌধুরীসহ এক একঝাঁক অভিনয় ও সংগীতশিল্পী। মেলার আয়োজন প্রসঙ্গে সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সীমা হামিদ বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের যুবক-তরুণেরা চাকরি করবে না, তারা চাকরির পেছনে ছুটবে না।তারা অন্যদের চাকরি দেবে, উদ্যোক্তা হবে। সে লক্ষ্যেই ইয়ুথ এন্টারপ্রেনাল ফেস্টিভালের আয়োজন করে আসছে আমাদের সংগঠন। ’ সীমা হামিদ বলেন, ‘তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এ ধরনের মেলা তরুণদেরকে তাদের নিজেদের প্রতি আস্থা তৈরি করতে এবং তাদের আগামী দিনের ভবিষ্যতকে আরও শক্তিশালী করে একটা উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে বলে আমরা আশা করছি। ’ আয়োজনটি অনেকাংশেই সফল হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি উদ্যোক্তাদের পণ্যগুলো ভোক্তাদের সামনে তুলে ধরার। এখানে অংশগ্রহণকারী প্রায় প্রত্যেক উদ্যোক্তাই অনলাইনে তাদের প্রোডাক্ট সেল করেন। তাদের জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্যই এই মেলার আয়োজন। পাশাপাশি মূল এন্টারপ্রেনাররাও ভোক্তাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। যেহেতু মেলা থেকে অনেক বেচা কেনা হচ্ছে এবং নিয়মিত দর্শনার্থীরা আসছে, তাই আমি মেলাকে সফল বলেই মনে করি। ’ সংগঠনটির সভাপতি মুনা চৌধুরী বলেন, ‘এ মেলাটি তরুণ প্রজন্মের প্রতিভাবান নারী উদ্যােক্তাদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করবে। সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। ’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক আমান রেজা বলেন, ‘ইয়ুথ বাংলার আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হচ্ছে এই মেলা। উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের আনানোগায় মুখরিত মেলাটি দারুণভাবে সফল করায় সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। ’ উল্লেখ্য, ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফাউন্ডেশন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনায় উজ্জীবিত শিল্প ও সংস্কৃতি কর্মীদের নিয়ে একটি অলাভজনক সংগঠন। এই সংগঠনটি বরাবরই বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জন্য কাজ করে আসছে। এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে সৃজনশীল উদ্যোক্তারা দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি অসম্ভব ভালোবাসা ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এ ভালোবাসা থেকেই বঙ্গবন্ধু যখন প্রাদেশিক সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তার দূরদর্শিতায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার বিল আনা হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)।

সিনেমা অঙ্গনকে ভালোবেসে এদেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে আমৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। বঙ্গবন্ধু অভিনীত সিনেমাটির নাম ‘সংগ্রাম’। ছবিটি পরিচালনা করেন প্রয়াত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র ‘সংগ্রাম’। এতে ছোট্ট এক ভূমিকায় হাজির হয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালি। সে সময়ের চিত্রনায়ক কামরুল আলম খান খসরু ও চাষী নজরুল ইসলামের অনুরোধে ছোট্ট ওই চরিত্রে অভিনয়ে রাজি হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

ছবির চিত্রনাট্যের শেষ দিকে ছিল, মুক্তিযুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীন দেশের সামরিক বাহিনী বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্যালুট করছে। এই দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা যায় সে নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। একপ্রকার দুঃসাহস নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন ছবিটির নায়ক খসরু। কিন্তু বঙ্গবন্ধু প্রথমে রাজি হননি। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নানকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে অভিনয়ের জন্য তাকে রাজি করানো হয়।

‘সংগ্রাম’ ছবিটিতে নাযক ছিলেন খসরু আর নায়িকা সূচন্দা। ছবিটি ১৯৭৪ সালে মুক্তি পায়।

বঙ্গবন্ধু যে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন